প্যাসিফিকের এই তীরটায় যখন প্রথম আসি, আমার একটা কৌতূহল ছিল জানার যে এখানে আদতে বৃষ্টি কতটুকু হয় বছরে। কারণ তল্পিতল্পা সেটাপ করার সময় থেকেই দেখতেছি বাইরে কড়া রোদ, রোদের ‘সোদনে’ গা পুড়ে যায় যায় অবস্থা। তো কথায় কথায় মানুষজনের থেকে বের করা গেল, বৃষ্টি মূলত হয় বছরে হাতেগোণা কয়েকদিন। সাকুল্যে হয়তো পাঁচ-ছয়দিন হবে। মজা করে আমার ডিপার্টমেন্টের এক ফ্রেন্ড সেদিন এক গেস্ট স্পিকারকে বলতেছে- তুমি তো সিয়াটল থেকে সাথে করে বৃষ্টি নিয়ে আসলা। উত্তরদাতা জানাইল, সে নাকি আসলেই আসার সময় রোদ দেখে আসছে। হাসির পসরা।
তো বৃষ্টি নিয়ে আসছে ভালো কথা, সেটা থামার আর নামগন্ধ নাই। নিয়ম করে একটানা অথবা থেমে থেমে কয়েকবেলা লাগাতার বর্ষণ চলমান। হঠাৎ করে আশেপাশে কোথাও রাতবিরেতে কিংবা ভরদুপুরে ফায়ার এলার্ম নয়তো গাড়ির সাইরেন বেজে ওঠে- সেটা আবার মিলিয়েও যায় কিন্তু টুপটাপ চলতেই থাকে একমনে।
এরকম বৃষ্টির দিনে বাইরে বের হইতে ইচ্ছা করে না। আসলে ইচ্ছা করে, কিন্তু সেটা ঘুরতে বের হইতে, কোনোপ্রকার ক্লাস-মিটিং এটেন্ড করতে আর না। তো আল্লার কী অশেষ কুদরত, বৃষ্টি নামামাত্র বিকালের এক অডটাইমের ক্লাস ক্যান্সেল হয়ে গেল। শিক্ষক আবার বাংলাদেশি জন্যই কিনা কে জানে, পুরনো সেই দিনের কথা ইয়াদ এসে গেল। বৃষ্টি নামলেই টিউশন ক্যান্সেল। পড়ালেখা করা লাগবে না, তুইও ঘুমা, আমিও ঘুমাই। আহারে জীবন। ঘুম যেহেতু ধরতেছে না, তাহলে কীবোর্ড হাতে তুলে নিতে পারো। আরাম দিয়ে কথা, যে যেভাবে যখন যেমন।
তবে পাঁচ দিনের কোটা ইতোমধ্যে ফিলাপ। মানুষজন কি ফাঁপড় ছাড়লো, অনেস্ট মিসটেক করলো, নাকি আসলেই কোটার সমস্তটা দক্ষিণে নভেম্বরেই পূরণ করার রেওয়াজ- এ কিন্তু এক চিন্তার বিষয়।
নভেম্বর রেইন
আরভাইন, ২০২৫